পাইলস কি ?কেন হয় ?প্রতিকার ও চিকিৎসা.. hemorrhoids cause and treatment

 







পাইলসকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় হেমরোয়েডস বলা হয়। মলদ্বারের নিচের অংশে এক ধরনের রক্তের গুচ্ছ- যেটা আঙ্গুরের মতো ফুলে যায়, ফলে মল ত্যাগ করলে বা মল ত্যাগ না করলেও সেখান থেকে প্রায়ই রক্তপাত হয়। এটিই হচ্ছে পাইলস।







::::পাইলস এর পর্যায়:::

পাইলসকে চারটি ভাগে ভাগ করি। পর্যায়-এক, দুই, তিন থেকে পর্যায়-চার পর্যন্ত আমরা পাইলসকে ভাগ করি। এগুলো লক্ষণের ভিত্তিতে ভাগ করে থাকি। 


পর্যায়-এক পাইলসে শুধু রক্ত যাবে। এখানে সাধারণত ব্যথা হয় না। পায়খানার পরপর টাটকা রক্ত যায়। 


পর্যায়- দুই পাইলসে টাটকা রক্ত যাবে এবং রক্তগুচ্ছ বা পাইলসটা গোটার মতো বের হয়ে আসবে। মলত্যাগের পর এটা চলে যাবে। 


পর্যায়-তিন এ রক্তগুচ্ছ বাইরে বের হবে এবং হাত দিয়ে সেটা ভেতরে ঢুকিয়ে দিতে হবে। 



পর্যায়-চার এ কখনোই ঢোকানো যাবে না। বাইরে একটি টিউমার বা মাংস পিণ্ড জাতীয় জিনিস সবসময় বের হয়ে থাকবে। সেটা তার মলত্যাগে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ব্যথা হবে, এমনকি গ্যাংগ্রিন বা অন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।



পাইলস এর কারন



সাধারণত যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য আছে তাদের এটি বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া সাধারণ কারণও হতে পারে। বাচ্চাদের অনেক সময় হয়, গর্ভাবস্থায় এটা বেশি হয়। আবার অনেকে যথাসময়ে মল ত্যাগ করেন না, আটকে রাখেন- এসব কারণেও হয়। যাদের স্বাভাবিক মলত্যাগ হয়, তাদের ক্ষেত্রে এটি হওয়ার আশঙ্কা কম।



পাইলস এর প্রকারভেদ


পাইলস বিভিন্ন রকম হতে পারে। কতগুলো ভেতরে থাকে, যাকে আমরা ইন্টারনাল পাইলস অথবা অভ্যন্তরীণ পাইলস বলে থাকি। 


আবার কতগুলো পাইলস থাকে বাইরের দিকে, সেটিকে বলা হয় এক্সটারনাল পাইলস বা এক্সটারনাল হেমরয়েড।


পাইলসের চিকিৎসা:::::::


কেউ যদি প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসকের কাছে আসেন, তার যদি   


প্রথম ডিগ্রি হেমোরয়েড হয়ে থাকে- সেক্ষেত্রে কিন্তু কোনো অপারেশনের প্রয়োজন হয় না। এ ধরনের রোগীকে আমরা ওষুধ দিয়ে থাকি এবং পায়খানা স্বাভাবিক রাখার জন্যে প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি, পানি পান করতে বলি। কারো যদি কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে, তাহলে মল নরম করার জন্য কিছু ওষুধ দিয়ে থাকি। তাতে প্রায় ৯০ শতাংশ রোগী ভালো থাকেন।




 কারো যদি সেকেন্ড ডিগ্রি হোমোরয়েড হয়ে থাকে, তাদেরও আমরা অপারেশন করি না, চেম্বারের মধ্যেই আধুনিক চিকিৎসা করে থাকি। যেমন ইনজেকশন দিয়ে থাকি, যেটিকে আমরা স্ক্লেরো থেরাপি বলে থাকি। আবার কারো ক্ষেত্রে রিং লাইগেশন করে থাকি। যেটিকে বলা হয় রাবার রিং লাইগেশন।




 তবে কারো যদি থার্ড ডিগ্রি, ফোর্থ ডিগ্রি হেমোরয়েড হয়ে থাকে, তাদের ক্ষেত্রে আবার অপারেশনের প্রয়োজন হয়; কিন্তু আজকাল অপারেশন একেবারেই কষ্টদায়ক নয়। আমরা আধুনিক পদ্ধতিতে লেজারের মাধ্যমে, অথবা স্টেপল হেমোরয়ডোপেক্সি, একপ্রকার যন্ত্রের মাধ্যমে আমরা অপারেশন করে থাকি। এর মধ্যে বাইরের কোনো কাটাছেঁড়া হয় না, মলদ্বারের ভেতর থেকে একটু বাড়তি মাংসের মতো জিনিস কেটে নিয়ে আসি। রোগীদের সাধারণত মলত্যাগের পর তেমন ড্রেসিংয়ের প্রয়োজন হয় না, স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন এবং দুই-তিন দিন পর থেকেই স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরে যেতে পারেন।




Post a Comment

1 Comments

  1. অপারেশন করলে কি সারা জীবনের জন্য ভালো হবে

    ReplyDelete