চোখ ওঠা বা কনজাঙ্কটিভাইটিস(conjunctivitis)::
চোখের বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ এর মধ্যে সবথেকে কমন হলো চোখ ওঠা বা কনজাঙ্কটিভাইটিস(conjunctivitis)।
কনজাঙ্কটিভাইটিস (conjunctivitis)হল কনজাঙ্কটিভার প্রদাহ বা ব্যথা, এটি হল আমাদের চোখের পাতার নিচে ঝিল্লির মতো পাতলা পর্দা যা চোখের সাদা অংশকে ও চক্ষুপল্লবের ভিতর ভাগকে ঢেকে রাখে ।
কনজাংটিভাইটিস (conjunctivitis)কত প্রকার??
কনজাংটিভাইটিস(conjunctivitis) বা চোখ ওঠা মূলত কয়েক প্রকার যেমন:
১) ভাইরাল কনজাংটিভাইটিস (conjunctivitis)
এটি মূলত ভাইরাল ইনফেকশনের কারণে ঘটে থাকে এবং এটি সবচেয়ে সংক্রামক হয়। এটি প্রথমে এক চোখে শুরু হয় কয়েক দিনের মধ্যে তা অন্য চোখে সংক্রমিত হতে পারে।
২) ব্যাকটেরিয়া কনজাংটিভাইটিস(conjunctivitis) –
এটি সাধারণত ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমনের কারণে ঘটে থাকে এবং এটি একটি চোখ কে প্রভাবিত করে। তবে একটি চোখ সংক্রমণ হওয়ার পাশাপাশি অন্য চোখে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।
৩) অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস (conjunctivitis)
এটি মূলত এলার্জির কারণে হয়ে থাকে। এটার ক্ষেত্রে দুটি চোখেই জল, চুলকানি এবং লাল ভাব দেখা দেয়।
৪) কনজাংটিভাইটিস(conjunctivitis) নিওনেটাম–
এটি কনজাংটিভাইটিস(conjunctivitis) এর সবচেয়ে গুরুতর রূপ, যা মূলত নবজাতকদের ক্ষেত্রে দেখা যায়। এটি প্রসূতির সময় শিশুদের গনোরিয়া আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৫) জায়ান্ট পেপিলারি কনজাংটিভাইটিস(conjunctivitis) –
দীর্ঘদিন ধরে চোখে কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করার ফলে এই ধরনের কনজাংটিভাইটিস দেখা দিতে পারে।
চোখ ওঠা বা কনজাঙ্কটিভাইটিস(conjunctivitis) এর কারণ::
কনজাঙ্কটিভাইটিস বা চোখ ওঠার মূল কারণই হলো সংক্রমণ, অ্যালার্জি ও পরিবেশের যন্ত্রণা সৃষ্টিকারী পদার্থগুলি।
সাধারণত স্ট্যাফাইলোকক্কাস(staphylococcus), ক্ল্যামাইডিয়া(Chlamydia) ও গোনোকক্কাসের(gonococcus) মতো ব্যাকটিরিয়া এবং ভাইরাসের কারণে সংক্রমণ হয়।
সংক্রমণ পোকার মাধ্যমে, সংক্রমিত ব্যক্তির চোখ থেকে, আবার সংক্রমিত কসমেটিক বা প্রসাধনী দ্রব্য থেকেও ছড়ায়।
ফুলের রেণু, ধুলোর কণা, পশুপাখির লোম/পালক, দীর্ঘক্ষণ ধরে শক্ত বা নরম কন্ট্যাক্ট লেন্স একনাগাড়ে ব্যবহার করলে চোখের অ্যালার্জি হয়।
সাধারণত পরিবেশের যন্ত্রণা উৎপাদক কারণ হল দূষণ (ধোঁয়া, বাষ্প, প্রভৃতি), সুইমিং পুলের জলে থাকা ক্লোরিন ও বিষাক্ত রাসায়নিক।
কনজাংটিভাইটিসের কারণ ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস। তবে অ্যালার্জি, ঠান্ডা সর্দি বা চোখ কোনো রাসায়নিক বা ক্ষতিকর পদার্থের সংস্পর্শে এলেও কনজাংটিভায় প্রদাহ হয় এবং চোখ লাল দেখায়।
কনজাংটিভাইটিস(conjunctivitis) বা চোখ ওঠার লক্ষণ::
সংক্রমিত চোখের সাদা অংশটি গোলাপি বা লালচে হয়ে ওঠা।
চোখ দিয়ে জল পড়া ।্
চোখে জ্বালা এবং চুলকানির ভাব।
চোখে অতিরিক্ত পিঁচুটি আসা।
চোখের পাতা ফুলে ওঠা ও কনজাঙ্কটিভা ফুলে ওঠা।
চোখে অস্বস্তিবোধ হওয়া।
চোখের ভিতরে যেন কিছু একটা রয়েছে বলে মনে হওয়া।
চোখে দেখতে অসুবিধা হওয়া।
আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা।
সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময় চোখের পাতায় চটচটে পদার্থ লেগে থাকা।
চোখ ওঠা বা কনজাঙ্কটিভাইটিস(conjunctivitis) সংক্রামক কিনা??
কনজাংটিভাইটিস(conjunctivitis) যদি ভাইরাসজনিত হয় তাহলে তা মারাত্মক সংক্রামক। চোখে ভাইরাস দিয়ে প্রদাহ হলে চোখের পানিতে ভাইরাস ভেসে বেড়ায়। যখন এই অশ্রু মুছতে যাই, তখনই এটি আমাদের হাতে এসে যায়। এরপর থেকেই সেই হাত দিয়েই আমরা যা কিছুই ছুঁই না কেন, সেখানে ভাইরাস চলে আসে।
যেমন কারোর সঙ্গে করমর্দন, টিভি, এয়ারকন্ডিশনার রিমোট, ব্যবহৃত তোয়ালে, বিছানার চাদর, বালিশের কভার, এমনকি মুঠোফোন ইত্যাদিতে চলে আসতে পারে। এ জন্যই আক্রান্ত ব্যক্তিকে এই সময়ে বাসায় থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়। তার ব্যবহৃত জিনিসপত্রও কিছুটা আলাদা রাখা ভালো।
চোখ ওঠা বা কনজাঙ্কটিভাইটিস(conjunctivitis) এর সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয়::
চোখের পানি বা ময়লা মোছার জন্য আলাদা তোয়ালে বা রুমাল ব্যবহার করা
পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। অপরিষ্কার রুমাল ব্যবহার করা যাবে না
এই সময়ে কালো চশমা পরা যেতে পারে, এতে বাইরের ধুলাবালু বা বাহ্যিক আঘাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়
বাইরের পানি দিয়ে ঝাপটা দেওয়া যাবে না
চোখের পাতা বেশি ফুলে গেলে বরফ দেওয়া যেতে পারে
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু ওষুধ খাওয়া উচিত
হাত না ধুয়ে যখন-তখন চোখ ঘষা বা চুলকানো যাবে না
চোখ ওঠা শিশুদের আলাদা বিছানায় শোয়াতে হবে
চোখ ওঠা বা কনজাঙ্কটিভাইটিস(conjunctivitis) এর চিকিৎসা::
এলার্জি ও ভাইরাল কনজাংটিভাইটিস:(conjunctivitis)
এলার্জিক বা ভাইরাল কনজাংটিভাইটিস সাধারণত এক সপ্তাহ বা দুই সপ্তাহের মধ্যে নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়।
এ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কিছু ঔষধ
Antihistamine:-
Olopatadin eye preparation
Ketotifen
Rupatadin
Fexofenadin
Steroid preparation
ব্যাকটেরিয়াল কনজাংটিভাইটিস(conjunctivitis):
Gentamicin eye drop
Tobramycin eye drop
Ofloxacin eye drop
Moxifloxacin eye drop
Ciprofloxacin eye drop
চোখে ব্যথা থাকলে
NSAIDs:-
Paracetamol,
Ketotilac ইত্যাদি।
চোখ ওঠা বা কনজাঙ্কটিভাইটিস(conjunctivitis) এর প্রতিকার::
১. চোখ ওঠা খুবই ছোঁয়াচে রোগ। পরিবারের একজনের থেকে অন্যজনের হতে পারে। সুতরাং এসব ক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধের জন্য পরিবারের সবাই কাপড়, তোয়ালে ও অন্যান্য জিনিস আলাদা ব্যবহার করুন
২. চোখে হাত দেবেন না
৩. ঘন ঘন সাবান দিয়ে হাত ভালোমতো পরিষ্কার করু
৪. যেসব জিনিসে অ্যালার্জিক তা থেকে দূরে থাকু
৫. আক্রান্ত হলে ঘরে বিশ্রাম নিন।

3 Comments
Very very informative & effective
ReplyDeleteThis comment has been removed by the author.
DeleteThis comment has been removed by the author.
Delete