পিত্তথলির পাথর(gall stone)/cholelithiasis কেন হয়? পিত্তথলির পাথরের লক্ষণ। পিত্তথলির পাথরের চিকিৎসা(cholelithiasis)

  







পিত্তথলির পাথর আসলে ছোট ছোট বালুর দানার মতো থেকে শুরু করে মটরের দানা বা তার চেয়েও বড় শক্ত দানাদার বস্তু, যা বিভিন্ন রঙের ও বিভিন্ন আকৃতির হতে পারে।




পিত্তথলি কি/Fall bladder





 হজম পদ্ধতিতে বেশ কয়েকটি অঙ্গ থাকে যা সকলেই একত্রে খাদ্যকে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে কাজ করে। পিত্তথলি হ'ল এই কাঠামোর মধ্যে একটি। যকৃতের নীচে অবস্থিত, এটি চর্বিযুক্ত খাবারগুলি ছিন্ন করতে প্রধান ভূমিকা পালন করে। 

পিত্তথলি ডান নীচের পাঁজরের নীচে একটি ছোট ফাঁকা অঙ্গ । নাশপাতির মতো আকৃতির, পিত্তথলিটি পিত্তলিথের মাধ্যমে লিভারের সাথে সংযোগ স্থাপন করে।।











পিত্তথলির পাথর/cholelithiasis/gall stone


         ২  প্রকার

        -কোলেস্টেরল পাথর/stone

         -পিগমেন্ট পাথর/stone




পিত্তথলির পাথর কেন হয় 





বলা হয়ে থাকে সেই সকল মহিলা ,

মহিলা যাদের 40 বছর বয়স ,

সন্তান জন্মদানের সক্ষম

 ,সুন্দর দেখতে 

এবং মোটাসোটা, 

তাদের পিত্তথলির পাথর হয়ে থাকে। তবে সকল বয়সের সকল নারী এবং পুরুষের পিত্তথলির পাথর হয়। পিত্তথলির পাথরের/cholelithiasis/gall stone  কিছু কারণ উল্লেখ করা হলো







খাবারে কোলেস্টরলের পরিমাণ বেশি থাকলে পিত্তথলিতে পাথর হয়।




*যেসব নারী হরমোন নেন, নিয়মিত পিল খান তাদেরও পিত্তথলিতে পাথর হয়।




*বছরের পর বছর গ্যাস্ট্রিকে ওষুধ খেলেও পিত্তথলিতে পাথর হয়।




*গর্ভধারনও গরব্লাডারে পাথর হওয়ার একটা কারণ। কেননা গর্ভধারন করলে চলাফেরা কম করা হয়। এর ফলে পিত্তথলির ফাংশনটা কমে যায়।




*যারা শারীরীক পরিশ্রম কম করে তারাও পিত্তথলির পাথর হওয়ার ঝুঁকিতে ভোগেন।




*স্থুলকায় শরীর পিত্তথলির পাথরের প্রধান কারণ। এজন্য দেখা যায় আমেরিকার দশ ভাগ লোক গলব্লাডারে পাথর নিয়ে চলছে।




*পরিবারে কারো গলব্লাডারে পাথর থাকলে অন্যদেরও পাথর হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।




*শিশুর ক্ষেত্রে যদি রক্তে লোহিত কণিকা যদি ভেঙ্গে যায় সেক্ষেত্রে বেশী হতে পারে।









পিত্তথলির পাথরের/cholelithiasis লক্ষণ




পিত্তথলিতে পাথর হলে বেশি ভাগ ক্ষেত্রেই কোনো উপসর্গ থাকে না। প্রায় ৮৫-৯০ ভাগই ক্ষেত্রেই পিত্তপাথর ধরা পড়ে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে। তাছাড়া নিম্নলিখিত লক্ষণের মাধ্যমে পিত্তপাথর প্রকাশ পায়।




১.পিত্তথলিতে পাথর হলে এতে প্রদাহ হয়, যাকে কোলেসিস্টাইটিস (cholecystitis) বলা হয়। তখন পেটের ডানদিকে তীব্র ব্যথা হতে পারে। এই ব্যথা মিনিট খানেক থেকে ঘণ্টাখানেক স্থায়ী হতে পারে। 




২. পেটের পেছন দিকে, কাঁধে, পেটের মাঝ বরাবর এমনকি বুকের ভেতরও ধীরে ধীরে ব্যথা ছড়িয়ে পড়তে পারে। সেই সঙ্গে বমিভাব বা বমি, হালকা জ্বর দেখা দিতে পারে। 




৩. অনেক সময় পাথর পিত্তথলি থেকে বেরোতে গিয়ে পিত্তনালিতে আটকে যায় এবং তখন বিলিরুবিনের বিপাক ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার দরুন জন্ডিসও হতে পারে। 




৪. রোগ নির্ণয়ের জন্য এই উপসর্গের পাশাপাশি পেটের আলট্রাসনোগ্রাম যথেষ্ট। পাথরের অবস্থান জানতে বা প্রয়োজনে বের করতে ইআরসিপি জাতীয় পরীক্ষা করা যেতে পারে। 




৫. পেটের আলসার, যকৃতের কোনো সমস্যা এমনকি হৃদরোগেও এ উপসর্গের কাছাকাছি ধরনের ব্যথা হতে পারে বলে সেগুলোর অবস্থাও নির্ণয় করে নেয়া দরকার।।।








পিত্তথলির পাথরের cholelithiasisডায়াগনোসিস



আলট্রাসনোগ্রাফি



   -USG of Whole abdomen


    Or  



     USG of hepatobolliary system with              pancrease



পিত্তথলির পাথরের চিকিৎসা(cholelithiasis)





যখন খুব বেশি ব্যথা থাকে,(acute cholecystitis)

 তখন অপারেশন করা যায় না ।

তখন করণীয়




মুখে না খেয়ে থাকা, ইনজেকশনের মাধ্যমে অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যথার ওষুধ, এন্টি আলসারেন্ট, গ্রহণ করা। তারপর দুই মাস অতিবাহিত হলে অপারেশন করিয়ে নেওয়া।






বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, পিত্তথলির পাথরে চিকিৎসার প্রধান উপাদান হলো অপারেশন। অপারেশন দুই ভাবে করা যায়


১. সরাসরি পেট কেটে; 




২. লেপারোস্কপিক মেশিনের সাহায্যে। 






আধুনিক চিকিৎসা জগতে লেপারোস্কপিক পদ্ধতি খুবই সুবিধাজনক। ল্যাপারোস্কপির অর্থ হলো ক্যামেরা দিয়ে দেখা। পেটের যে অংশে পিত্তথলি অবস্থিত সেখানে ছোট ছোট ছিদ্র করে সূক্ষ্ম সরু যন্ত্র দিয়ে পিত্তথলির পাথর অপসারণ করা হয়। এতে অপারেশনের পর ব্যথা ও রক্ষক্ষরণ কম হয়। রোগী দু’-একদিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়।





প্রতিরোধ





১. অতিরিক্ত ওজন ধীরে ধীরে কমানো।২. অধিক শ্বাসযুক্ত খাবার গ্রহণ যেমন- শাকসবজি, ফলমূল ইত্যাদি।৩. অধিক পরিমাণ উদ্ভিজ্জ তেল বা ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ তেল গ্রহণ যেমন- সূর্যমুখী তেল, অলিভ অয়েল।৪. অধিক প্রাণিজ চর্বি গ্রহণ এড়িয়ে চলা।৫. ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২.৫-৩ লিটার পানি পান করা।৬. নিয়মিত দৈহিক ব্যায়াম করা (প্রাপ্ত বয়স্কদের)।







Post a Comment

3 Comments