খাওয়ার স্যালাইন
বর্তমানে সারাদেশেই ডায়রিয়ার প্রকোপ বেশি। ডায়রিয়ার অন্যতম প্রধান চিকিৎসা খাবার স্যালাইন। কিন্তু এ স্যালাইন কীভাবে বানাতে হয় এবং কীভাবে খাওয়াতে হয় তা নিয়েই ঘটে নানা বিপত্তি। কখনও রোগীর প্রাণ যায় কেবল ভুলভাবে স্যালাইন বানানো এবং খাওয়ানোর জন্য।
প্রশ্ন : তাহলে স্যালাইন কীভাবে বানাতে হবে?
উত্তর : হাফ লিটার পানি নিতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় হাফ লিটারের একটা বোতল দিয়ে মেপে নিলে। এবার পুরো প্যাকেটটির সবটুকু ঢেলে দিয়ে মিশিয়ে নিতে হবে৷ এরপর পরিমাণমতো খাওয়াতে হবে।
প্রশ্ন : একটু একটু করে সল্ট পানির সাথে মেশালে হবে না?
উত্তর : না, হবে না। ওরাল রিহাইড্রেশান সল্টের (যাকে পানিতে মেশানোর পর আমরা স্যালাইন বলছি) মধ্যে থাকে লবণ অর্থাৎ সোডিয়াম ক্লোরাইড, পটাশিয়াম ক্লোরাইড, থাকে গ্লুকোজ এবং ট্রাইসোডিয়াম সাইট্রেট৷ নিয়ম হচ্ছে আমাদের যে স্যালাইনের প্যাকেটটি পাওয়া যায় তা হাফ লিটার পানির মধ্যে মিশিয়ে খাওয়াতে হয়। এখন কেউ যদি এরচেয়ে অল্প পানিতে মিশিয়ে খাওয়ায় তাহলে কী হবে? শরীরে লবণের মাত্রা বেড়ে যাবে অনেক বেশি। এর প্রভাবে কোষ থেকে পানি বেরিয়ে আসবে, বিশেষ করে ব্রেইনের। কোষগুলো নষ্ট হবে। এবং তা থেকে মৃত্যু হওয়া অস্বাভাবিক না৷ তাই পুরোটা একসাথেই বানাতে হবে।
প্রশ্ন : স্যালাইন কতোটুকু করে খেতে হবে?
উত্তর : ১০ বছরের বেশি বয়স হলে প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর ১ গ্লাস (২৫০ মিলি) করে খেতে হবে। আর ছোটো বাচ্চাদের ক্ষেত্রে, তার ওজন যতো কেজি ততো চামচ ওরস্যালাইন খাওয়াতে হবে।
প্রশ্ন : স্যালাইন বানিয়ে কতোক্ষণ রাখা যাবে?
উত্তর : ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত খাওয়ানো যাবে।
প্রশ্ন : ১২ ঘণ্টা পর স্যালাইন রয়ে গেলে সেটা কী করব?
উত্তর : ফেলে দিতে হবে।
প্রশ্ন : টাকা দিয়ে কিনেছি নষ্ট কেন করব?
উত্তর : এটা নষ্ট করা না। এরমধ্যে গ্লুকোজ থাকে। যে পানিতে গ্লুকোজ থাকে তা জীবাণু বেড়ে ওঠার জন্যে একটা চমৎকার মিডিয়া হিসেবে কাজ করে। আর ১২ ঘণ্টা পর সেখানে জীবাণুর সংক্রমণ হবার সম্ভাবনা খুব বেশি। এই স্যালাইন খাওয়ালে শরীরে জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে।
প্রশ্ন : গ্লুকোজ যখন খারাপই, তাহলে এখানে গ্লুকোজ দেবারই বা কী দরকার ছিল?
উত্তর : একটা মানুষের যখন বারবার লুজ স্টুল পাস হতে থাকে, সে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এই গ্লুকোজ তাকে এনার্জি দেয়। তাছাড়া ডায়রিয়ার সময় প্রচুর লবণ বেরিয়ে যায় শরীর থেকে, এখন স্যালাইনের মধ্যে যে লবণ (সোডিয়াম) থাকে তা কোষের ভেতরে ঢোকাতে গ্লুকোজের সহায়তা লাগে।
প্রশ্ন : এতো যখন ঝামেলা তো স্যালাইন বারবার খাওয়াবার দরকার কী? শুনেছি বাজারে ইমোটিল নামে একটা ওষুধ পাওয়া যায় সেটা খেলে না কি ডায়রিয়া বন্ধ হয়ে যায়? সেটা খাইয়ে দিই?
উত্তর : না। ২০ বারের বেশি ডায়রিয়া হলে চিকিৎসকরা এটা দিয়ে থাকেন। তাছাড়া এই ওষুধটার কিছু সমস্যা আছে। ডায়রিয়ার সাথে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ/জীবাণুগুলো বেরিয়ে যায়, এখন আমরা যদি এই ওষুধ দিই তাহলে স্টুল পাস হওয়াই বন্ধ হয়ে যাবে৷ ফলে সেগুলো শরীর থেকে বের হবে না, যা ক্ষতিকর। এছাড়া ছোট বাচ্চাদের ক্ষুদ্রান্ত্রের মুভমেন্ট বন্ধ করে দিয়ে 'প্যারালাইটিক আইলিয়াস'-এর মতো ভয়াবহ অবস্থা করতে পারে।

3 Comments
Nice information
ReplyDeleteGoddd
ReplyDeleteGood information
ReplyDelete